যুক্তরাষ্ট্রের নাকের নিচ দিয়ে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে দীর্ঘমেতি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ ইরান। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি ও কঠোর নজরদারি এড়িয়ে নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য প্রায় ২০০ কোটি ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম ও উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র আমদানি করেছে তেহরান। অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে এই বিশাল পরিমাণ সামরিক চালান দেশে নিয়ে আসে তারা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিস্তারিত তুলে ধরে জানিয়েছে যে, বৈশ্বিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী গোয়েন্দা নজরদারি এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাদের কঠোর সামুদ্রিক টহল ও কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই বিশাল বাণিজ্য সম্পন্ন হলো, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিভিন্ন ফাঁকফোকর, ভুয়া কোম্পানি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ব্যবহার করে এই অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জামগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনা মার্কিন নীতিনির্ধারক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা অর্থনৈতিক অবরোধ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরানের এমন সফল সামরিক সংগ্রহ প্রমাণ করে যে, তেহরান তাদের প্রতিরক্ষা কৌশলকে যেকোনো মূল্যে শক্তিশালী করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং যেকোনো সম্ভাব্য বহিঃশত্রুর আক্রমণ মোকাবিলা করতে এই আধুনিক সামরিক সরঞ্জামগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। মার্কিন নাকের ডগায় এমন বড় ধরনের অভিযান সফল হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের অস্ত্র বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক