১২ কেজি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বা এলপিজির দাম ১৯৭৬ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের বা বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। বর্তমান বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনা করে এই নতুন দাম নির্ধারণের প্রস্তাব আনা হয়েছে। সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমানো এবং বাজারে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে ব্যবসায়ীরা এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে দাবি করেছেন যে, বর্তমান আমদানি খরচ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় বিবেচনা করে ১২ কেজি এলপিজির দাম অন্তত ২২৩২ টাকা নির্ধারণ করা উচিত। ব্যবসায়ীদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে পূর্বের দামে গ্যাস সরবরাহ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমান বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দাম না বাড়ালে এলপিজি আমদানিকারক ও পরিবেশকরা মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়তে পারেন বলে তারা গণমাধ্যমকে জানান।
জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এলপিজির দাম নিয়ে বিইআরসি এবং ব্যবসায়ীদের এই টানাপোড়েনের মধ্যে সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ সবার আগে দেখা উচিত। দেশের অর্থনীতিতে যখন মূল্যস্ফীতির প্রভাব চলছে, তখন জ্বালানি তেলের এই দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য বিইআরসি একটি গণশুনানির আয়োজন করবে বলে জানা গেছে। শুনানিতে ভোক্তা অধিকার সংগঠন, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত তুলে ধরবেন এবং এরপরই কমিশন ১২ কেজি এলপিজির নতুন ও চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক