বছর ঘুরে আবারও কড়া নাড়ছে শুষ্ক মৌসুম। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই দেশজুড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শুষ্ক মৌসুমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পায়। সাধারণ মানুষের সামান্য অসাবধানতা, বৈদ্যুতিক লাইনের ত্রুটি এবং রান্নার কাজে গ্যাসের অনিরাপদ ব্যবহারের কারণে প্রায়ই বড় ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, যাতে মূল্যবান প্রাণহানি ও কোটি কোটি টাকার সম্পদহানি হয়।
এই সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো সফলভাবে এড়াতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবার আগে থেকেই বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা গণমাধ্যমকে জানান, শুষ্ক মৌসুমে যে কোনো ধরনের বড় দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতিটি আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের নিজস্ব অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বা ফায়ার সেফটি অত্যন্ত কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে রান্না শেষে চুলার গ্যাসের মূল সংযোগ বা সিলিন্ডারের রেগুলেটর অবশ্যই বন্ধ রাখার অভ্যাস করতে হবে।
এ ছাড়া বাসা-বাড়ি ও অফিস আদালতের পুরোনো বৈদ্যুতিক তার, সাব-স্টেশন এবং বিভিন্ন ভারী যন্ত্রপাতি নিয়মিত পেশাদার লোক দিয়ে পরীক্ষা বা মেইনটেন্যান্স করার ওপর জোর দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বা ফায়ার এক্সটিংগুইশার প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি জরুরি নির্গমন পথ সবসময় উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। সামান্য সচেতনতা এবং নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমেই এই ভয়াবহ শুষ্ক মৌসুমের মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক