জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত তীব্র দাঙ্গায় রূপ নিয়েছে। দেশটির প্রায় ১৪০টি শহরে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় ইতিমধ্যে প্রায় দুই হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে ফরাসি প্রশাসনকে।
ফরাসি রাজধানী প্যারিসসহ বড় বড় শহরগুলোতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসেন। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অসন্তোষ এই গণবিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। আন্দোলনকারীরা সরকারের অর্থনৈতিক নীতির কঠোর সমালোচনা করে স্লোগান দেন এবং বিভিন্ন সরকারি ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় ভাঙচুর চালান। অনেক স্থানে গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনী জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইউরোপের অন্যতম প্রধান এই অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সংকট নিরসনে সংলাপের আহ্বান জানানো হলেও বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবিতে অনড় রয়েছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই আন্দোলনের প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় ফ্রান্সজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক