বাংলাদেশের সব বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অব্যাহত হয়রানি, অবহেলা ও হেনস্তার ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী ডিসেম্বরের পর কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রবাসী নাগরিক সমাজের যুক্তরাষ্ট্র শাখা। সম্প্রতি এক জরুরি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো এই প্রবাসীদের পাঠানো কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বা রেমিট্যান্স। অথচ দেশে যাওয়ার পর প্রতিটি বিমানবন্দরে তাদের নানা ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, লাগেজ হারিয়ে যাওয়া এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু অসাধু সদস্যের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হতে হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশ একটি নতুন গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যাত্রা শুরু করলেও বিমানবন্দরগুলোতে সেবার মান বা প্রবাসীদের নিরাপত্তা এখনো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় উন্নীত হয়নি। বরং দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ও অব্যবস্থাপনা এখনো বহাল রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অবিলম্বে যদি সব বিমানবন্দরকে দালালমুক্ত করা না হয় এবং প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করা না হয়, তবে প্রবাসী সমাজ সম্মিলিতভাবে রেমিট্যান্স শাটডাউন বা অর্থপ্রবাহ বন্ধের মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখতে প্রবাসীদের অবদান অপরিসীম। তাই তাদের এই ক্ষোভ এবং দাবির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত প্রশাসনিক সংস্কার আনা প্রয়োজন। নতুবা অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান অর্থনীতিবিদরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক