উন্নয়নশীল আট দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা ডি-৮ পুনর্গঠন, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ভিসা অব্যাহতির বিষয়ে জোরালো প্রস্তাব তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। শনিবার ১৭ অক্টোবর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই প্রস্তাব অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, ডি-৮ জোটের পূর্ণাঙ্গ সম্ভাবনা এখনো কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য বাধা দূর করতে এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় করতে একটি কার্যকর রূপরেখা প্রণয়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে সদস্য দেশগুলোর ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের যাতায়াত সহজতর করার জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ বা অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য যে, অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার শাসনামলে বৈদেশিক কূটনৈতিক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, বরং ফ্যাসিস্ট সরকারের ভুল নীতিমালার কারণে আঞ্চলিক জোটে বাংলাদেশের জোরালো ভূমিকা ম্লান হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে গতিশীলতা এসেছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহে বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখা হচ্ছে।
কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত বর্তমান প্রশাসন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সহযোগিতার নতুন দিগ উন্মোচন করছে। ডি-৮ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মকে পুনর্গঠন করার মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং রপ্তানি বাজার সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে সদস্য দেশগুলোর সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদী সুফল ভোগ করবেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক