লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে লাইফ লাইন নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রসূতিকে দীর্ঘ সময় আটকে রেখে চিকিৎসায় অবহেলা ও অনিয়মের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের জোরালো দাবি, হাসপাতালে একের পর এক অপ্রয়োজনীয় ইনজেকশন দেওয়ার পর গর্ভস্থ প্রসূতির পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতির দিকে যায়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সঠিক সময়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবং প্রসূতিকে জিম্মি করে রাখার ফলে শেষ পর্যন্ত নবজাতকটির মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, প্রসূতি নারীর প্রসববেদন শুরু হলে তাকে দ্রুত ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে কোনো নিবন্ধিত ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত না থাকার পরও স্থানীয় কিছু হাতুড়ে ও নামসর্বস্ব চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় নবজাতকটি প্রাণ হারায়। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয় যে, নবজাতকের মৃত্যুর পরও বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা প্রসূতিকে জোরপূর্বক আটকে রেখে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের পাঁয়তারা চালায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অবিলম্বে এই ভুঁইফোড় ও অনিবন্ধিত হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য বিভাগের উদাসীনতার কারণে কীভাবে এ ধরনের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক