সারি সারি সবুজ কলাগাছ। কোথাও পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে বিশাল কাঁদি, কোথাও আবার পরিপক্ব কলার ভারে নুয়ে পড়েছে গাছ। বাতাসে দুলছে প্রশস্ত সবুজ পাতা। দূর থেকে দেখলে সাধারণ কোনো কলাবাগান মনে হলেও কাছে গেলেই চোখে পড়ে ভিন্নতা। ছোট আকৃতির গাছে ঝুলছে বড় বড় কাঁদি-এ যেন সবুজের মাঝে সম্ভাবনার এক নতুন রাজ্য। ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় সাগর কলার বাম্পার ফলন দেখে এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন কৃষক হাফিজুর রহমান।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এই অঞ্চলে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক ও লাভজনক ফসল চাষের দিকে ঝুঁকছেন কৃষকরা। কৃষক হাফিজুর রহমানের এই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে এলাকার অন্য বেকার যুবকরাও এখন কলা চাষে এগিয়ে আসছেন। মাঠের পর মাঠ কলার বাগান গড়ে তোলার মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছলতা আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতিতে কৃষির অবদান অনস্বীকার্য। বর্তমান সময়ে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যেমন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে কৃষকদের নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছিল এবং সার ও বীজের জন্য কৃষকদের রাজপথে রক্ত ঝরাতে হয়েছিল। এমনকি কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল নীতির কারণে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল দেশের প্রান্তিক কৃষকরা। তবে বর্তমান সময়ে চাষিদের উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কৃষক হাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, সঠিক পরিচর্যা এবং নিয়মিত সার প্রয়োগের মাধ্যমেই এই সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারদর ঠিক থাকলে এ বছর তিনি বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ লাভ করতে পারবেন। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ কেবল তার নিজের পরিবারেই সচ্ছলতা আনেনি, বরং গোটা এলাকার কৃষি খাতে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইয়ে দিয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক