যমুনা নদীর ওপর নির্মিত রেল সেতু প্রকল্পের বিশেষ নিরীক্ষায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তরের প্রণীত এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জাপানের উচ্চমানের স্টিলের পরিবর্তে নিম্নমানের মিয়ানমারের স্টিল ব্যবহার করার ফলে এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশের যোগাযোগ খাতের অন্যতম মেগা এই প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে নির্মাণ সামগ্রী আমদানির ক্ষেত্রে চুক্তি লঙ্ঘন করে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের ফলে সেতুর দীর্ঘস্থায়ীত্ব ও নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা এবং দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হয়েছে বলে নিরীক্ষা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের বলেছেন, এই ধরনের আর্থিক অনিয়মের পেছনে কারা জড়িত এবং এর সাথে কোন কোন প্রভাবশালী মহল লাভবান হয়েছে, তা উদঘাটনে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রের প্রতিটি মেগা প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক