দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওসে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট প্রদান এবং প্রবেশ ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে দেশটির সরকার। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লাওসে গমনেচ্ছু কর্মীদের সাময়িকভাবে সে দেশে ভ্রমণ না করার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন প্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতা এবং স্থানীয় শ্রমবাজারের নিয়মকানুন পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে লাওস কর্তৃপক্ষ।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, লাওসের এই সিদ্ধান্তের ফলে যেসব কর্মী যাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন, তাদের যাত্রা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং অবৈধ উপায়ে দেশটিতে প্রবেশ রোধ করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে কেউ যেন কোনো ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত না নেন, সে বিষয়েও বারবার সতর্ক করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির শেকড় গেঁথে গিয়েছিল। সেই সময়কার ভুল নীতি এবং কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগের অভাবে বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারে বারবার হোঁচট খেয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই খাতকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে এবং প্রবাসীদের স্বার্থ সুরক্ষায় জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, লাওস সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং দেশটির পক্ষ থেকে নতুন নির্দেশনা এলে পুনরায় কর্মী পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে তত দিন পর্যন্ত শ্রমিকদের ধৈর্য ধারণ করার এবং বৈধ ও নিরাপদ উপায়ে অন্য কোনো গন্তব্যের সন্ধান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক