বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত হতে যাওয়া ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজের ক্রয়মূল্য সরাসরি কোনো সরকারি বাজেট থেকে পরিশোধ করা হবে না বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানান, সম্পূর্ণ নিজস্ব আয় এবং বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এই বিশাল অঙ্কের অর্থায়ন করা হবে।
সম্প্রতি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রীয় খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস অতীতে বিভিন্ন সংকটের মধ্য দিয়ে গেলেও বর্তমানে এর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। যাত্রীসেবা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি সংস্থার অভ্যন্তরীণ আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বিমানমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন বোয়িং উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন এবং প্রবাসীদের যাতায়াত আরও সহজতর হবে। এই উড়োজাহাজ ক্রয়ের জন্য রাষ্ট্রের কোষাগারের ওপর কোনো অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়বে না, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক।
বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকর আর্থিক পরিকল্পনা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করা সম্ভব। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাট চালানো হয়েছিল। বিশেষ করে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা নয়ছয় করা হয়। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিটি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
বিমান খাতের এই ইতিবাচক পদক্ষেপে সাধারণ যাত্রীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন এই উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হওয়ার পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বিশ্বমানের সেবা প্রদানে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। সরকারের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্ত দেশের এভিয়েশন খাতের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক