প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ কোনো নিপীড়নমূলক আইনে পরিণত হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। কোনো সাংবাদিক বা গণমাধ্যম যেন আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হয়, সে বিষয়ে বর্তমান সরকার অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে বলে তিনি স্পষ্ট করেন। গণমাধ্যমকে জানান, সাংবাদিক গ্রেপ্তারের পূর্বে আদালতের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করার যে প্রস্তাব উঠেছে, তার সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। অতীতে বিভিন্ন সময় দেখেছি কীভাবে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে এবং সাংবাদিকদের ওপর দমনপীড়ন চালাতে কালাকানুন ব্যবহার করেছিল। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অসংখ্য সাংবাদিক মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন এবং হয়রানির মুখে পড়েছেন। কিন্তু বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিস্থিতিতে কাউকে আর মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হেনস্তা হতে দেওয়া হবে না।
বৈঠকে অংশ নেওয়া জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন ধারায় প্রয়োজনীয় সংশোধনীর ওপর জোর দেন। বিশেষ করে, মানহানির মামলার ক্ষেত্রে সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরিবর্তে সমন পাঠানোর বিধান যুক্ত করার দাবি জানান তারা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের এই যৌক্তিক দাবিগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কেবল সাংবাদিকদের অধিকার নয়, এটি একটি সুস্থ সমাজের মৌলিক ভিত্তি। অতীতে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ যেভাবে দেশের মুক্তবুদ্ধি চর্চাকে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান প্রশাসন একটি উদার ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আরও একটি দফা আলোচনার পর সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এর চূড়ান্ত রূপরেখা সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক