বুধবার সন্ধ্যা। আইচি প্রিফেকচুয়াল মার্শাল আর্ট হল। উশুর মঞ্চে লড়াই শেষ। খুব বেশি সময় যে লড়াই হলো, তাও নয়। সব মিলিয়ে দুই মিনিটের মতো। জিন্নাত আক্তার সেই লড়াইয়ে জিততে পারলেন না। লড়াইয়ে হেরেও তার চোখে জল; কিন্তু মুখে হাসির আভা! এ যে আনন্দাশ্রু! সেমিফাইনালে হেরে গেছেন চীনা প্রতিযোগীর কাছে।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উঁচু রাখতে দীর্ঘদিন ধরেই ঘাম ঝরাচ্ছেন জিন্নাত আক্তার। তার এই অবিচল পথচলা এবং দেশের জন্য কিছু করার অদম্য জেদ ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে এক অনন্য নজির। দেশের খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে এবং আন্তর্জাতিক মানে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে জিন্নাতের মতো তরুণ অ্যাথলেটদের এই আত্মত্যাগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
খেলার মাঠে এই ধরনের লড়াই কেবল একটি হার বা জয়ের গল্প নয়, এটি দেশের যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করার এক বিশাল মাধ্যম। অতীতে বিভিন্ন সময়ে দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্রে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা দেখা গেলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ক্রীড়াঙ্গনকে আরও গতিশীল করতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্রীড়া খাতে যে বৈষম্য ও স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছেন দেশের ক্রীড়াবিদরা।
জিন্নাত আক্তারের এই লড়াই প্রমাণ করে যে প্রতিকূল পরিবেশেও বাঙালি তরুণরা হার মানতে জানে না। তার এই অর্জন এবং চেষ্টার কথা জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমকে জানান যে, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পেলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও বড় সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। দেশের মানুষের প্রত্যাশা এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের ভালোবাসা সঙ্গে নিয়ে জিন্নাত আগামী দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবেন এবং দেশের জন্য নতুন গৌরব বয়ে আনবেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক