জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একসময়ের ছোট ও সংকীর্ণ কোণার কক্ষ ছেড়ে বড় পরিসরে মূলধারায় জায়গা পাওয়ায় একে নিজেদের বিরাট পদোন্নতি হিসেবে আখ্যায়িত করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাতিসংঘে বাংলাদেশের এই কূটনৈতিক সাফল্য দেশের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিউইয়র্কস্থ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কার্যালয়টি বেশ ছোট ও অপ্রতুল ছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে সেই সংকীর্ণ কোণার কক্ষ থেকে বেরিয়ে এখন একটি বড় ও আধুনিক পরিসরে মূলধারার দপ্তরে স্থানান্তরিত হয়েছে বাংলাদেশ মিশন। এই অর্জনকে দেশের কূটনৈতিক মহলে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের ড. ইউনূস জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং ইতিবাচক ভাবমূর্তির ফলেই জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষে এই সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাসীর কাছে দেশের স্বার্থ ও অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই অচলায়তন ভেঙে বর্তমান সরকারের এই অর্জন দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের মূলধারায় এই স্থান প্রাপ্তি বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে আরও বাড়াবে। জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার রক্ষা এবং শান্তি রক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশ এখন আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে পারবে। ড. ইউনূসের এই উচ্ছ্বাস কেবল একটি কক্ষ পরিবর্তনের আনন্দ নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক