যুদ্ধের বিভীষিকা সব কেড়ে নিলেও মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছাকে যে দমিয়ে রাখা যায় না, তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চলেছেন সিরিয়ার দুই তরুণ তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড়। যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বদেশ ছেড়ে শরণার্থী হিসেবে জীবনযাপন শুরু করা মাহমুদ জাসেম মুহাম্মদ এবং তালা হাসান হুনাইদি নিজেদের অদম্য জেদ ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করে চলেছেন।
সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে শৈশব ও কৈশোরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে এই দুই তরুণকে। দেশের সোনালী ঐতিহ্য এবং শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের রাজনীতি কিংবা যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের নানা ঘটনাপ্রবাহের বাইরে গিয়ে তারা নিজেদের মনঃসংযোগ সম্পূর্ণভাবে খেলাধুলার ওপর নিবদ্ধ করেন। শরণার্থী শিবрыর অভাব-অনটন এবং নানা সামাজিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে তারা আজ আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করার গৌরব অর্জন করেছেন।
তাদের এই অনুপ্রেরণাদায়ী যাত্রায় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং ক্রীড়া সংগঠনগুলো পাশে দাঁড়িয়েছে। তায়কোয়ান্দো ম্যাটেই এখন তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে তারা প্রতিদিন নিজেদের সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়ার লড়াই করছেন। শরণার্থীদের জীবন মানেই যে নিছক করুণা চাওয়া নয়, বরং নিজের মেধা ও যোগ্যতার বলে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকা—মাহমুদ এবং তালা সেটাই প্রমাণ করে দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই তরুণের সাফল্যের গল্প বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ সংঘাতপীড়িত মানুষের মনে আশার আলো জ্বালাবে। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে কীভাবে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যায়, তার এক উজ্জ্বল প্রতীক হয়ে উঠেছেন তারা। আগামী দিনে বিশ্বমঞ্চে আরও বড় সাফল্যের পতাকা ওড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই দুই অ্যাথলেট, যা গোটা বিশ্বের কাছে এক অসামান্য বার্তা বহন করে নিয়ে যাচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক