চারপাশে সবুজের মায়া। কোথাও উঁচু গাছের সারি, কোথাও খোলা ঘাসের মাঠ। জাপানের নাগোয়ার খারোগি অ্যাথলেটিক পার্ক নামের সঙ্গে যেন সত্যিই পার্কের চেহারাটা মিশে আছে। সেই সুন্দর পার্কেই এদিন বাংলাদেশের খেলাধুলার সার্বিক চিত্রটা ছিল একেবারেই বিপরীত। সবুজের সৌন্দর্যের মধ্যে লাল-সবুজের প্রতিনিধি দলকে মনে হলো বড় অসহায়। প্রতিপক্ষ দল খেলল অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ও পরিকল্পিতভাবে, যা মাঠের লড়াইয়ে স্পষ্ট পার্থক্য গড়ে দেয়।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের এই অংশগ্রহণ দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। তবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা পেতে হলে কাঠামোগত উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিকল্প নেই। খেলোয়াড়রা তাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করলেও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে যে ধরনের উন্নত সুযোগ-সুবিধা এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, তার ঘাটতি বরাবরই থেকে যায়। সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল অংশগ্রহণ নয়, বরং পদক জয়ের মানসিকতা নিয়ে তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে।
স্বর্ণপদক জয়ের যে সুদূরপ্রসারী স্বপ্ন নিয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এসেছিলেন, তা এখন অনেকটাই ম্লান। তবে সব আশার প্রদীপ নিভে যায়নি। এখনো ব্রোঞ্জপদক জয়ের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই লক্ষ্যে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে হবে এবং নিজেদের সব ভুলত্রুটি শুধরে মাঠে নামতে হবে। পুরো জাতি এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে অ্যাথলেটদের পরবর্তী পারফরম্যান্সের দিকে, যাতে অন্তত একটি ব্রোঞ্জপদক জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করা সম্ভব হয়।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক