নেপাল-চীন সীমান্তে আঘাত হানা ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৩৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রাকৃতিক এই তাণ্ডবের দুর্যোগপূর্ণ ১০ দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৫৩১ জন মানুষ। নিখোঁজদের এই বিশাল তালিকার মধ্যে রয়েছে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের নামও, যা উদ্ধারকাজকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে। গত ২৬ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই প্রলয়ংকরী দুর্যোগের ফলে নেপালের বিস্তীর্ণ জনপদ এবং প্রতিবেশী দেশ চীনের তিব্বত অঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সাধিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও অবিরাম বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাট ভেঙে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, ফলে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধারকারী দলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে যত সময় গড়াচ্ছে, জীবিত উদ্ধারের আশা ততই ক্ষীণ হয়ে আসছে। ধসে পড়া ঘরবাড়ি ও স্তূপীকৃত কাদার নিচ থেকে এখনো নিয়মিত শ উদ্ধার করা হচ্ছে। নেপালের সরকার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ব্যাপকভিত্তিক ত্রাণ ও উদ্ধার সহায়তার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক মানবিক সাহায্যকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে দুর্গত এলাকায় পানীয় জল, ওষুধ ও খাদ্য বিতরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক