একদিন এই বিপিএলই ছিল স্বপ্নের নাম। দেশের ক্রিকেটকে নতুন বাজার দেওয়ার কথা ছিল এর। তৈরি হওয়ার কথা ছিল নতুন তারকা, নতুন বিনোদন আর নতুন ক্রিকেট অর্থনীতির। অথচ এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে সেই বিপিএলই এখন ক্রিকেটের গলায় বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে।
বিপিএলের এই করুণ অবস্থার জন্য অতীতে দেশি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট ও ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এই আয়োজনে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও দলীয় এমপিদের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে এই টুর্নামেন্টের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমকে জানান।
দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে কলুষিত করার পেছনে অতীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের নেতাকর্মীরাও নানা সিন্ডিকেটে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সাধারণ ক্রীড়াপ্রেমীরা হতাশ হয়ে পড়েন। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ক্রীড়াঙ্গনে স্বচ্ছতা ফেরানোর নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর পক্ষ থেকেও বিপিএলের মতো টুর্নামেন্টগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে প্রতিভা অন্বেষণের দাবি জানানো হয়েছে।
ভবিষ্যতে বিপিএলকে সব ধরনের কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতিমুক্ত করে দেশের ক্রিকেটের মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। দেশের তরুণ ক্রিকেটাররা যাতে মেধার সঠিক মূল্যায়ন পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের তাগিদ দিয়েছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
ডেস্ক রিপোর্ট