যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার প্রায় ছয় সপ্তাহ পর এবার পার্লামেন্ট সদস্য অর্থাৎ এমপি পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির সাবেক নেতা কিয়ার স্টারমার। মঙ্গলবার এক বিশেষ ঘোষণায় তিনি তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান, যা ব্রিটিশ রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত কিছুদিন ধরে রাজনৈতিক নানা সমীকরণ এবং দলের ভেতরে ও বাইরে পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যে তার এই পদত্যাগের বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কিয়ার স্টারমার তার বর্ণিল রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে লেবার পার্টির নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দেশের প্রধান নীতিনির্ধারক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়ার পর থেকেই তার পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে নানামুখী গুঞ্জন চলছিল। অবশেষে সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি পার্লামেন্টের সদস্যপদ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা দিলেন। তার এই প্রস্থানের ফলে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক কৌশলেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ব্রিটেনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সাবেক শীর্ষ নেতাদের এভাবে হঠাৎ করে সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা নতুন নয়, তবে স্টারমারের ক্ষেত্রে এর সময়কাল এবং প্রেক্ষাপট বেশ ভিন্ন। দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখে তার এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যমকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রায় যারা পাশে ছিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট