এশিয়ান গেমস হকি সামনে রেখে জার্মানিতে অনুশীলন ক্যাম্প গড়তে চেয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় হকি দল। কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত জার্মানি যাওয়া সম্ভব হয়নি হকি দলের। তবে জার্মানি যেতে না পারলেও বিকল্প হিসেবে চীনে প্রস্তুত হবে জাতীয় দল। জার্মানির পরিবর্তে এখন চীনের মাটিতেই নিজেদের ঘাম ঝরাবে হকি খেলোয়াড়রা, যা আসন্ন প্রতিযোগিতার জন্য তাদের প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এরই মধ্যে এশিয়ান কাপ হকি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে অনূর্ধ্ব-২০ ছেলে ও নারী দল বর্তমানে চীনে অবস্থান করছে। তাদের এই সফর হকি অঙ্গনে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই ক্যাম্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খেলোয়াড়দের ফিটনেস এবং কৌশলগত উন্নতির জন্য চীন সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সকল প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এদিকে দেশের ক্রীড়া খাতের সার্বিক উন্নয়নে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। অতীতে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ক্রীড়াঙ্গনে নানা অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ থাকলেও, বর্তমানে সেই ধারা থেকে বের হয়ে এসে মেধার ভিত্তিতে ক্রীড়াবিদদের সুযোগ দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্রীড়াঙ্গনকে পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে হকি ছাড়াও অন্যান্য ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের জন্যও উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, বিগত দিনে কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেক ফেডারেশন সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারেনি। এমনকি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং তাদের সমমনা যুব সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্রীড়াঙ্গনেও দলীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে বর্তমান সময়ে এসব প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দেশের খেলাধুলাকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। চীনে হকি দলের এই অনুশীলন ক্যাম্প সফল হবে এবং জাতীয় দল দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
ডেস্ক রিপোর্ট