নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি বেড়েই চলেছে। গত বুধবারের দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই ৮১০ জনে পৌঁছেছে এবং এখনও তিন হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যেই ভোতেকোশি নদীর পানি বাড়তে থাকায় নেপালে নতুন করে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তিব্বতেও নিখোঁজদের সন্ধানে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান বলছে, নেপাল ও চীনের তিব্বতে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮১০ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নেপালে ৭৯৪ জন এবং চীনের এই অঞ্চলে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেপালে এখনও আড়াই হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে শত শত মানুষ বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে আরও ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বিবিসির চীন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শিগাতসে এলাকায় উদ্ধারকারীরা এখনও কাউকে জীবিত খুঁজে পাচ্ছেন না এবং নিখোঁজদের উদ্ধারে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, তিব্বতে নিখোঁজ ২৬১ জন বিদেশির মধ্যে শতাধিক নেপালি রয়েছেন। এসব নিখোঁজ ব্যক্তির মধ্যে এক ডজনের বেশি দেশের কয়েক শ মানুষ রয়েছেন। তারা কেউ সেখানে কাজ করতে, কেউ পাহাড়ে ভ্রমণ করতে এবং কেউ পবিত্র একটি শৃঙ্গ তীর্থযাত্রার জন্য গিয়েছিলেন।
দ্য গার্ডিয়ান বলছে, নেপালের ভোতেকোশি নদীর পানি বাড়তে থাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।
বার্তাসংস্থা এপির বরাতে জানা গেছে, রোববার মানুষের মোবাইল ফোনে বন্যার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এ সময় উদ্ধারকারী দল ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকার সঙ্গে কাঠমান্ডুর যোগাযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ করছিল।
এদিকে চীনা কর্তৃপক্ষ উজানে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার তথ্য নেপালকে জানানোর পর নতুন করে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানিয়েছে, বুধবারের বন্যার পর উঁচু পাহাড়ি এলাকায় একটি নতুন হ্রদের সৃষ্টি হয়েছিল। সেটির বেশির ভাগ পানি এরই মধ্যে নেমে গেছে।