ওমান উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিখোঁজ থাকা শেষ ভারতীয় নাবিকেরও মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ওই হামলায় আক্রান্ত তিন ভারতীয় নাবিকেরই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে নয়াদিল্লি। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের উপরাষ্ট্রদূত জেসন মিকসকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত সরকার। খবর আলজাজিরার।
ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’ এবং বন্দর, জাহাজ পরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে ওমান উপকূলে ‘সেত্তেবেলো’ নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভারতের নৌপরিবহণ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল নিশ্চিত করেছেন, হামলায় নিখোঁজ থাকা তিন নাবিক মারা গেছেন।
ফরওয়ার্ড সিমেনস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক মনোজ যাদব জানিয়েছেন, নিহত তিন ভারতীয় নাবিকের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন— ডেক ক্যাডেট আদিত্য শর্মা, ইঞ্জিন ফিটার শিবানন্দ চৌরাসিয়া ও প্রধান প্রকৌশলী পটনালা সুরেশ (যিনি প্রথমে নিখোঁজ ছিলেন)।
আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন এই প্রাণঘাতী হামলার পর দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন মিশনের উপ-প্রধান জেসন মিকসকে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দেশটি এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য এবং চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে একটি ‘কঠোর আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ’ লজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
এদিকে হামলার দায় স্বীকার করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ওমান উপসাগর অতিক্রম করার সময় তারা ‘সেত্তেবেলো’ ট্যাংকারটিতে নিখুঁত বা ‘প্রিসিশন’ স্ট্রাইক চালিয়েছে।
পেন্টাগনের দাবি, জাহাজটি অবৈধভাবে ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বহন করছিল। তাছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ থেকে জাহাজটিকে থামার নির্দেশ দেওয়া হলেও এর ক্রুরা মার্কিন বাহিনীর নির্দেশনা অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।
গত কয়েক দিন ধরে মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত করাকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হয়। এই ঘটনা তারই একটি অংশ। তবে দুই দেশের এই ভূরাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝে বেসামরিক ভারতীয় নাবিকদের মর্মান্তিক মৃত্যু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।