শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ন

বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির বোঝায় বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬ ৩:৩০ pm

বিগত সরকারের অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতি, দুর্নীতি, লুটপাট ও অনিয়মের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিপুল অর্থ অপচয় ও পাচার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নীতি এবং এ খাতে সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিদ্যুৎ খাতে হরিলুট ও অর্থ পাচার হয়েছে।

বিগত সরকারের সময়ে সম্পাদিত বেশ কিছু মেগা প্রকল্পে একতরফা ও বিতর্কিত শর্ত যুক্ত থাকায় বিদ্যুৎ আমদানি ও ক্রয়ে অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা আমাদের উপর চেপে বসেছে। এ খাতে বার্ষিক ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।

বর্তমানে দেশের স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৮ হাজার ৯শ ১৯ মেগাওয়াট (আমদানি ও অন-গ্রিড নবায়নযোগ্যসহ) হলেও নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনো নিশ্চিত হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদানের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমাদের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগসমূহ হচ্ছে— বিদ্যুতখাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধপূর্বক এই খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ, বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিদ্যুৎ খাতে নিবিড় মনিটরিং, অদক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে বন্ধ করা, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আধুনিকায়ন এবং ‘লিস্ট কস্ট জেনারেশন’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, ক্যাপাসিটি চার্জ ও বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি পর্যালোচনার মাধ্যমে এ খাতে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্কের পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়ন এবং স্মার্ট গ্রিড উন্নয়নের মাধ্যমে সিস্টেম লস কমিয়ে সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত থেকে উৎপাদন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ এবং সঞ্চালন লাইন ২৫ হাজার সার্কিট কিলোমিটারে সম্প্রসারণ এবং দুই হাজার চারশ মেগাওয়াট ক্ষমতার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে প্রথম ইউনিট হতে জানুয়ারি ২০২৭ নাগাদ ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি উল্লিখিত উদ্যোগসমূহের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা দেশে তুলনামূলক সাশ্রয়ী, নিরবচ্ছিন্ন, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবো।

শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Twitter
  • Digg
  • Linkedin
  • Reddit
  • Google Plus
  • Pinterest
  • Print
আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD