মার্জিন ঋণের বিপরীতে অনাদায়ী ক্ষতি বা নেগেটিভ ইক্যুইটি এবং আনরিয়েলাইজড লস-সংক্রান্ত মাসিক প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় সাতটি ব্রোকারেজ হাউজের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা, মার্জিন ঋণ ও কার্যক্রম যাচাইয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দিতেও বলা হয়েছে।
সম্প্রতি ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছে বিএসইসি।
অভিযুক্ত সাত ব্রোকারেজ হাউজ হলো— সলতা ক্যাপিটাল, বেক্সিমকো সিকিউরিটিজ, ফারইস্ট স্টক অ্যান্ড বন্ডস, স্নিগ্ধা ইক্যুইটিজ, সোনালী সিকিউরিটিজ, ট্রেড এক্স সিকিউরিটিজ এবং এসবিআই সিকিউরিটিজ।
বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যালোচনায় দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে নেগেটিভ ইক্যুইটি ও লোকসানসংক্রান্ত তথ্য জমা দিচ্ছে না। কমিশনের মতে, বাজার তদারকি ও বিনিয়োগকারীদের অর্থের নিরাপত্তা মূল্যায়নে এসব তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল না করা আইনের লঙ্ঘন এবং এটি পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এই পরিস্থিতিতে ডিএসইকে চারটি প্রধান নির্দেশনা দিয়েছে বিএসইসি। প্রথমত, অবিলম্বে ওই সাত ব্রোকারেজ হাউজে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন না দেওয়ার কারণ এবং আর্থিক লোকসানের বাস্তব অবস্থা খতিয়ে দেখতে হবে। দ্বিতীয়ত, নিয়মভঙ্গকারী হাউজগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, বকেয়া প্রতিবেদনগুলো দ্রুত জমা দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, এই চিঠি পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে পরিদর্শনের ফলাফল, আর্থিক সক্ষমতা এবং ডিএসইর সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করতে হবে।
এ বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, সাত ব্রোকারেজ হাউজ সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য ডিএসইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিদর্শন কার্যক্রমে কী ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেল এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা বিএসইসিকে জানাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিএসইর সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনও তলব করা হয়েছে।