বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৯:৪১ অপরাহ্ন

এরদোয়ানকে অপমানের দায়ে সাংবাদিকের বিচার শুরু তুরস্কে

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬ ৯:৪১ pm

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে অপমান করার অভিযোগে আঙ্কারায় জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক সাংবাদিকের বিচার শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার আঙ্কারার আদালতে ওই সাংবাদিকের বিচার শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ডয়চে ভেলে। তবে আদালত তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কয়েকটি পোস্টের মাধ্যমে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে ‘অপমান’ এবং ‘মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর’ অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আঙ্কারার নিজ বাসা থেকে আলিজান উলুদাগ নামের ডয়চে ভেলের ওই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাংবাদিক আলিজানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে নিন্দা জানিয়েছে বার্লিন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ওই সাংবাদিককে অবিলম্বে মুক্তি দিতে তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে ইস্তাম্বুলের একটি কারাগারে বন্দি থাকা উলুদাগ ভিডিও লিংকের মাধ্যমে আদালতের শুনানিতে অংশ নেন। এ সময় তিনি দৃঢ়ভাবে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং মামলা থেকে বেকসুর খালাস চান। ডয়চে ভেলের একটি দল আদালতকক্ষে উপস্থিত ছিল।

১৮ বছর ধরে আদালতের সংবাদ সংগ্রহ করা উলুদাগ শুনানিতে বলেন, ‌‘‘আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু আমি এমন কোনও অপরাধ করিনি যা গ্রেপ্তারের যোগ্য…আমি একজন সাংবাদিক, যার কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমি সাধারণ কিছু সমালোচনা করেছি, বিচার বিভাগ ও রাজনীতির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছি। একজন আদালত প্রতিবেদক হিসেবে আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচার বিভাগের কার্যক্রমের সমালোচনা করেছি। আমি জানতে চাই, এর মধ্যে অপরাধের কী আছে?’’

ডয়চে ভেলে বলেছে, শুনানির প্রায় এক ঘণ্টা পর বিচারক তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেন এবং আদালতের কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করেন।

পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, গত কয়েক বছরে তুরস্কে কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে সাংবাদিক, এমনকি সাবেক মিস তুর্কিও একই ধরনের মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। এরদোয়ানের সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতেই প্রায়ই এই আইনটির ব্যবহার করা হয়।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) উলুদাগের এই গ্রেপ্তারকে ‘আপত্তিকর’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, দোষী সাব্যস্ত হলে তার চার বছর আট মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তুরস্কের পরিচালক রুহাত সেনা আকশেনার বলেন, ‘‘কেবল সাংবাদিকতা করার কারণে যেসব সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমকর্মী মানবাধিকার লঙ্ঘন, অপরাধী সাব্যস্ত হওয়া এবং স্বাধীনতাহীনতার শিকার হয়েছেন, তাদের সবাইকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।’’

দেশটির বামপন্থী ঘরানার পত্রিকা ‘বিরগুন’ বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের একটি প্রতিবেদন নিয়ে ‘প্রেসিডেন্টকে অবমাননার’ অভিযোগে বৃহস্পতিবার ওই পত্রিকার দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। অভিযুক্ত ওই দুই কর্মকর্তা হলেন সেফের সেলচুক ওজবেক এবং গোকে বাশকান।

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্সের ২০২৬ সালের বিশ্ব গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে তুরস্কের অবস্থান ১৬৩তম।

সূত্র: এএফপি।

শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Twitter
  • Digg
  • Linkedin
  • Reddit
  • Google Plus
  • Pinterest
  • Print
আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD