২০২৫ সালে বাংলাদেশে নিট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবাহ ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে নিট এফডিআই ২০২৪ সালের ১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ এফডিআই জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জানায়, পুনর্বিনিয়োগকৃত আয় ও আন্তঃকোম্পানি ঋণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এটি নির্দেশ করে যে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালে পুনর্বিনিয়োগকৃত আয় আগের বছরের ১০৩ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন ডলার থেকে ৩১৮ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়ে ৪৩৪ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আন্তঃকোম্পানি ঋণ ৬২১ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ডলার থেকে ২৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেড়ে ৭৮১ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
বিডার বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিশ্বব্যাপী নতুন বিনিয়োগের বৈরী পরিবেশ এবং ২০২৫ সালে গ্রিনফিল্ড প্রকল্পের ঘোষণা ১৬ শতাংশ হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও ইকুইটি মূলধনের পরিমাণ প্রায় স্থিতিশীল ছিল। ইকুইটি মূলধন ২০২৪ সালের ৫৪৪.৬৪ মিলিয়ন ডলার থেকে ১.৮৪ শতাংশ বেড়ে ৫৫৪.৬৪ মিলিয়ন ডলার হয়েছে।
বিডা আরও জানায়, গত ২৮ এপ্রিল জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের এফডিআইয়ের এই সাফল্যকে মন্দা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, বৈশ্বিক ধাক্কা ও অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তায় ভরা কয়েক বছর পার করার পর ২০২৫ সালে এফডিআই বেড়ে ১.৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই ঘুরে দাঁড়ানো এটাই প্রমাণ করে যে, ‘প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও বিনিয়োগকারীরা তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বজায় রেখেছেন’।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আমাদের সমালোচকদের স্বাগত জানাই। গঠনমূলক সমালোচনা আমাদের সতর্ক থাকতে এবং আরও ভালো কাজ করতে সাহায্য করে। বিশ্বব্যাপী ২০২৫ সালে গ্রিনফিল্ড প্রকল্পের ঘোষণা কমেছে এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো এই চাপ আরও তীব্রভাবে অনুভব করেছে। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নিট এফডিআই ৩৯.৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া একটি আশাব্যঞ্জক সংকেত।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিনিয়োগের প্রকৃত পরিমাণ এখনও আমাদের সম্ভাবনার চেয়ে কম। তবে এর ইতিবাচক গতিধারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে একটি রূপান্তর-পরবর্তী বছরে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত থাকায় আমরা এই সময়টিকে নিজেদের প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে ব্যবহার করছি, যাতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে বড় ধরনের পুঁজি আকর্ষণের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে।’
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিয়মকানুন সহজীকরণ ও বিনিয়োগের পরিবেশ সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করতে সরকারের চলমান প্রচেষ্টা বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ করা, ব্যবসা পরিচালনা ও সম্প্রসারণ করা আরও সহজ হবে।
এতে আরও বলা হয়, দেশের সামগ্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়নে বিডা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা) ও পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) যৌথভাবে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এই কর্মপরিকল্পনায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধা সহজীকরণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।