রাজধানীর উত্তরা ও গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তাররা হলেন- শরীয়তপুরের মো. মজিবুর রহমান (৩৮), পটুয়াখালীর মো. দুলাল মৃধা (৪০) ও নেত্রকোনার মো. মামুন (২৫)।
ডিবি বলছে, আসন্ন কোরবানির ঈদ সামনে রেখে তিনটি মেশিনে দিন-রাত জাল টাকা ছাপানো হচ্ছিলো। এই টাকা বাজারে ছাড়া শুরু করতেই অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় তাদের।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
শফিকুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর উত্তরাপূর্ব থানাধীন সমবায় বাজার (বিডিআর) মার্কেটের সামনে এবং পরে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালায় ডিবির উত্তরা বিভাগ। উত্তরাপূর্ব থানার সমবায় বাজার এলাকায় জাল টাকা কেনাবেচার সময় মজিবুর রহমানকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৪ লাখ টাকার জাল নোট এবং জাল টাকা বিক্রির ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে মজিবুরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুলাল মৃধা ও মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অভিযানে তাদের কাছ থেকে আরও ৩৪ লাখ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ, তিনটি কালার প্রিন্টার, সোনালী রঙের ফয়েল পেপার, সিকিউরিটি ট্যাগ ও জলছাপযুক্ত কাগজ, আংশিক প্রিন্ট করা এক হাজার টাকার নোট, তরল গাম, কাটার এবং জলছাপ বসানোর ডাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে জাল টাকা তৈরি করে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে পশুর হাট ও বিপণিবিতানে জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাদের। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় উত্তরাপূর্ব থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।