স্পোর্টিং উইকেট হিসেবে বগুড়ার নামডাক বেশ পুরনো। জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচেও সেই চরিত্রই দেখা গেল। দুই ইনিংস মিলিয়ে উঠল ৬৪৩ রান। রানবন্যার রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ৮৫ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। মাত্র ৬ রান করে বিদায় নেন ওপেনার শাহাদাত হোসেন দিপু। তবে দ্রুতই ম্যাচের হাল ধরেন অধিনায়ক জাকির হাসান। তার সঙ্গে ইফতেখার হোসেন ইফতি গড়ে তোলেন দারুণ এক জুটি। শতরানের এই জুটিতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পায় টাইগাররা।
অধিনায়ক জাকির ছিলেন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক। নেতৃত্বের প্রথম ম্যাচেই পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা। ৯৭ বলে ১১৯ রানের ইনিংসে হাঁকিয়েছেন ৯টি চার ও ৫টি ছক্কা। তিনে নামা ইফতেখারও কম যাননি, ৫৮ বলে ৭০ রান করে চাপ জিম্বাবুয়ের ওপর বাড়ান তিনি।
মিডলঅর্ডারে বাকিরা শুরু পেলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। অমিত হাসান (৩১), ইয়াসির আলি চৌধুরী (৩৪) এবং আকবর আলী (২৭) রান যোগ করে স্কোরবোর্ডের চাকা সচল রেখেছেন। শেষদিকে সামিউন বশির রাতুলের ১৮ বলে অপরাজিত ৪১ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন। তাতে ৫০ ওভারে ৩৬৪ রানের বড় সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।
৩৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের শুরুটা মন্দ হয়নি। তবে টাইগারদের রান পাহাড়ের কারণে ধীরে ধীরে চাপের মুখে পড়ে রোডেশিয়ানরা। ওপেনিংয়ে নামা ইনোসেন্ট কাইয়া ২৬ এবং ম্যাথিউ ক্যাম্পবেল ৫২ রান করে সফরকারীদের লড়াইয়ের ভিত গড়ে দেন।
তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় লড়াই দেখা যায় ওয়েসলি মাধেভেরের ব্যাটে। ৯৩ বলে ১১৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেললেও একা হয়ে পড়েন তিনি। ১৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো তার শতক পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৪৮.৫ ওভারে ২৭৯ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল।
ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও দুর্দান্ত ছিলেন সামিউন বশির রাতুল। বাঁহাতি এই স্পিনার নিয়েছেন তিন উইকেট। লম্বা সময় পর বাইশ গজে ফেরা রোহানাত দৌল্লাহ বর্ষণও তিন উইকেটের দেখা পেয়েছেন। এছাড়া রহস্যময় স্পিনার আলিস আল ইসলাম ২ এবং সাকলাইন ও খালেদ আহমেদ নিয়েছেন একটি করে উইকেট।