বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ন

হামের প্রাদুর্ভাব নয়, টিকা সংকট নিয়ে সরকারকে সতর্ক করা হয়েছিল : ইউনিসেফ

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬ ৫:২৯ pm

দেশে দীর্ঘ সময় ধরে হামের রুটিন টিকার সংকট ছিল এবং এ বিষয়ে ২০১৯ সাল থেকেই বিগত সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করেছিল জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির দাবি, বিগত সরকারকে টিকার সংকট নিয়ে অন্তত ১০ বার বৈঠকে এবং পাঁচ থেকে ছয়টি আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে সম্ভাব্য সংকটের বিষয়ে অবহিত করা হলেও পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

বুধবার (২০ মে) দুপুরে রাজধানীর ইউনিসেফ বাংলাদেশ কার্যালয়ের জেপিজি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত ‘হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি ও চলমান প্রতিরোধ কার্যক্রম’ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।

এতে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ১ কোটি ৭৮ লাখ (১৭.৮ মিলিয়ন) ডোজ হামের টিকা আসে, যা দেশের মোট চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। অথচ দেশে বছরে প্রায় ৭ কোটি (৭০ মিলিয়ন) ডোজ হামের টিকার প্রয়োজন হয়। দীর্ঘ সময় পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় রুটিন টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয় এবং বহু শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়।

ইউনিসেফ জানায়, টিকার ঘাটতি নিয়ে ২০১৯ সালের পর থেকেই সরকারের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ করেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, কোনো মহামারি রাতারাতি ঘটে না। বিশেষ করে টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে আগে থেকেই সতর্ক সংকেত থাকে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার বিষয়ে মন্ত্রিসভার একটি সিদ্ধান্তের কারণে ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়েছিল। আমার মনে হয় না এর আগে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও ভালো বলতে পারবে।

রানা ফ্লাওয়ার্স জানান, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিি পর্যন্ত ইউনিসেফ পাঁচ থেকে ছয়টি চিঠি পাঠায়, যার মধ্যে শেষ চিঠিটি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক দুই দিন আগে (১০ ফেব্রুয়ারি) পাঠানো হয়েছিল। আমরা আশা করেছিলাম, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির ডেস্কে চিঠিটি থাকবে।

তিনি আরও বলেন, আমি এবং আমার সহকর্মীরা অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার বার বৈঠক করেছি। প্রতিবারই আমরা বলেছি যে আমরা উদ্বিগ্ন এবং দেশে টিকার সংকট তৈরি হতে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন রুটিন টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় দেশে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। তবে চলতি বছরের মে মাসে আবার দেশে হামের রুটিন টিকা সরবরাহ শুরু হয়েছে। এখন ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনা, আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদারে কাজ করছে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীরা।

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত টিকাদানে কোনো ধরনের বিঘ্ন হওয়া উচিত নয়। সময়মতো পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতেও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

হামের প্রাদুর্ভাব থেকে শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ঘটনার পর ‘আফটার অ্যাকশন রিভিউ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা খতিয়ে দেখব কেন প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ শিশু টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যাচ্ছে।

টিকা কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি জানান, টিকা একটি অত্যন্ত বিশেষায়িত পণ্য হওয়ায় শুধু কম দামের বিষয়টি বিবেচনা করা যায় না। আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে টিকাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত, কার্যকর এবং নিরাপদ। ইউনিসেফ বহু বছর ধরেই বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পক্ষে টিকা সংগ্রহ করে আসছে। বড় পরিসরে কেনাকাটা করার কারণে আমরা তুলনামূলক কম দামে মানসম্মত টিকা সরবরাহ করতে পারি।

শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Twitter
  • Digg
  • Linkedin
  • Reddit
  • Google Plus
  • Pinterest
  • Print
আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD