ভারতের উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীতে ধসে পড়া একটি টানেলের ভেতর ১৭ দিন ধরে আটকা পড়ে আছেন ৪১জন শ্রমিক। নানাভাবে তাদেরকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে গতকাল সোমবার থেকে ‘ম্যানুয়াল ড্রিলিং অপারেশন’ শুরু করেছে উদ্ধারকারীদের একটি দল। তারা জানিয়েছে, আর মাত্র পাঁচ মিটার খুঁড়লেই পৌঁছা যাবে শ্রমিকদের কাছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, গতকাল থেকে যন্ত্রের পরিবর্তে কায়িক শ্রম নির্ভর ‘ম্যানুয়াল ড্রিলিং’ শুরু হয়েছে। ২৪ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল ‘র্যাট হোল মাইনিং’ নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়াটি শুরু করেছে। তারা আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানোর জন্য একটি অপ্রশস্ত পথ তৈরি করছেন।
উদ্ধারকারী দলের কর্মকর্তারা বলেছেন, ৮৬ মিটার উলম্ব ড্রিলিংয়ের ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। উদ্ধারকর্মীদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি কর্মীকে হেলমেট, ইউনিফর্ম, মাস্ক ও চশমা দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে।
ভারতের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সৈয়দ আতা হাসনাইন বলেন, উল্লম্ব ড্রিলিং অপারেশনের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৩৬ মিটার গভীরে ঢুকে পড়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে বৃষ্টির পূর্বাভাস ও তীব্র শীতের কারণে চলমান উদ্ধারকাজ কিছুটা ব্যহত হচ্ছে।
আটকে পড়া শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য একটি পাইপের মাধ্যমে ল্যান্ডলাইন সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে ১১টা এবং বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দিনে দুবার আটকে পড়া শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন চিকিৎসকেরা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল বলেন, ‘আমাদের অনেক সতর্কতার সঙ্গে এই উদ্ধার অভিযান শেষ করতে হবে। প্রকৃতি আমাদের ক্রমাগত চ্যালেঞ্জ দিচ্ছে। কিন্তু আমরা দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা সার্বক্ষণিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শ্রমিকদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে হবে।
গত ১২ নভেম্বর উত্তরাখন্ডের উত্তরকাশী জেলার একটি জাতীয় মহাসড়কে নির্মাণাধীন এই সুড়ঙ্গের একাংশ ধসে পড়ে। সুড়ঙ্গটির উচ্চতা সাড়ে আট মিটার এবং এটি প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার দীর্ঘ। প্রায় ১৭ দিন ধরে সেখানে ৪১ জন শ্রমিক আটকে আছেন।
উত্তরাখন্ডের মূখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সাংবাদিকদের বলেন, ‘শ্রমিকদের বের হয়ে যাওয়ার পথটি সুড়ঙ্গের ৫২ মিটার ভেতর পর্যন্ত প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এটি ৫৭ মিটারে যেয়ে শেষ হবে। আমরা আশা করছি খুব শিগগির উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হবে।’
দিপক পাতিল নামের একজন উদ্ধার কর্মকর্তা বলেন, ‘আর মাত্র ৫ থেকে ৭ মিটার (খনন) বাকি।’