মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বায়রা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সদস্য সেলিম হোসেনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রশাসনের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে মিথ্যা বানোয়াট অসংলগ্ন বক্তব্য ও দলীয় শৃংঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আউয়াল শরিফ খোকন স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাকে বহিষ্কার করা হয়। তবে এই বহিস্কারাদেশের বিষয়ে কোনো কিছু কথা জানেন না বলে জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবিদুর রহমান খান রোমান।
দলীয় সূত্র ও বিএনপির একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, সেলিম হোসেন ও তার ব্যবসায়ীক অংশীদার সৈয়দ আবু সুফিয়ানের কাছে ১৪ কোটি টাকা পান। এনিয়ে সালিসি বৈঠক হয়। সালিসে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান মিঠু আবু সুফিয়ানের পক্ষে ভুমিকা রাখেন। তাছাড়া রাজনৈতিক ভাবেও তারা দু’জন দুই গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ত। এসব কারণ ছাড়াও ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল।
সেলিম হোসেন জানান, সম্প্রতি পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে আমার ব্যবসায়ীক অংশীদার সৈয়দ আবু সুফিয়ানের মধ্যে ঝামেলা হয় হয়। এই ঘটনায় ছেলেসহ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা করেন আবু সুফিয়ান। মামলা হওয়ার পিছনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও সি) জে,ও,এম তৌফিক আজমের হাত রয়েছে। এবিষয়ে ওসির বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি), ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার ও মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবে লিখিত অভিযোগ করেছি। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমেও কথা বলেছি। এখন ওসিকে রক্ষা করতে দলের সভাপতিকে না জানিয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান মিঠুর একক সিদ্ধান্তে অবৈধ ভাবে আমাকে বহিস্কার করা হয়। এই বহিষ্কারাদেশ আমি মানিনা।
এবিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবিদুর রহমান খান রোমান বলেন, সেলিমকে বহিস্কারের বিষয় নিয়ে দলীয় ফোরামে কখনো আলোচনা হয়নি। তাছাড়া সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহাববুর রহমান মিঠুও আমাকে কিছু জানাননি। বহিস্কারের পর দলীয় নেতাকর্মীর কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছি। আমার ধারণা, সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান মিঠু ব্যক্তিগত আক্রোশে সেলিমকে বহিস্কার করেছে।
অপরদিকে সেলিমকে বহিস্কারের প্রক্রিয়াকে সংগঠনের গঠনতন্ত্রের লঙ্ঘন ও ব্যক্তিগত আক্রোশজনিত বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত।
তিনি বলেন, কাউকে বহিষ্কার করতে হলে অপরাধের সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে কারন দর্শানোর নোটিশ প্রেরণ করতে হয়। নির্ধারিত সময়ে নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে দলীয় ফোরামের আলোচনা করে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেলিমের বহিষ্কারের ক্ষেত্রে এর কিছুই মানা হয়নি। এছাড়াও সভাপতিকে না জানিয়ে এ ধরনের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। মনগড়া অসাংগঠনিক কার্যকালাপের কারণে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।