মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভদ্রাসন ইউনিয়নের সাহাপাড়া গ্রামে রাতের আঁধারে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো কাঁঠাল গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-এর স্থানীয় কয়েক নেতার বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী এই চক্রটি সাধারণ মানুষের সম্পত্তি জবরদখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। রাতের অন্ধকারে হঠাৎ করে এই ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এই ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী গণমাধ্যমকে জানান, রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এই গাছগুলো কাটা হয়েছে। শতবর্ষী প্রাচীন গাছগুলো এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। কিন্তু কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের কিছু প্রভাবশালী নেতা রাতের বেলা ভারী যন্ত্রপাতি ও লোকবল ব্যবহার করে এই অপকর্ম চালায়। শুধু গাছ কাটাই নয়, জমি দখলের উদ্দেশ্যে সেখানে পাকা পিলার ও সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমল থেকেই এই ধরনের দখলবাজ সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষের ওপর ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিল। ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ও দেশের বিভিন্ন স্থানে এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এ বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, জনগণের সম্পত্তি রক্ষায় এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক