দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচনের জন্য বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার (৯ আগস্ট) বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, দলটির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামকে বিবেচনার পক্ষে।
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন এবং জোটগতভাবে মোট ২১২টি পেয়ে সরকার গঠন করে।
বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য তাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিএনপি এগিয়ে থাকায় দলটির প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম শোনা যাওয়ার অন্যতম কারণ তিনি একজন পরীক্ষিত নেতা হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি দলটির বাইরে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং জনগণের মাঝে ইতিবাচক ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা।
এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব তাদের দলের মহাসচিবকে সম্মান দিতে চাইছে বলে জানিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা। তাদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের সময়টাতে দমন-পীড়ন, নির্যাতনে বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়াকে কারাগারে থাকতে হয়েছে। তাদের আরেক শীর্ষ নেতা তারেক রহমান ছিলেন লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে।
শীর্ষ দুই নেতার অনুপস্থিতিতে লম্বা সময় ধরে বিএনপির সংকটে এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে দেশের ভেতরে মির্জা ফখরুল ছিলেন দৃশ্যমান মূল নেতৃত্বে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরে মহাসচিব হিসেবে দলের ভেতরে-বাইরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরে যে অবস্থান তৈরি হয়েছে, সে প্রেক্ষাপটে তাকে সম্মান দেওয়ার বিষয় বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে তাদের দলে।