বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর মানবাধিকার সুরক্ষা প্রশ্নে বিএনপি সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ক্ষমতায় যাওয়ার পর তারা সেটি রক্ষা করতে পারেনি। বরং সম্প্রতি এমন তিনটি আইন পাস করা হয়েছে, যা দেশটির মানবাধিকার সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আবারও পেছনে ঠেলে দিয়েছে। বুধবার এক বিবৃতিতে এসব কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার সংগঠনগুলো। বিগত দিনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশ নতুন সম্ভাবনার পথে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নাগরিক অধিকার রক্ষা নিয়ে নানা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্র মেরামতের যে আকাক্সক্ষা নিয়ে সাধারণ মানুষ আন্দোলন করেছিল, তার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটাতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। বিগত সরকারের আমলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া বিভিন্ন দমনমূলক আইনি কাঠামো বাতিল বা সংশোধন করার দাবি থাকলেও, বর্তমান বাস্তবতায় তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে জনগণের মৌলিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছিল।
এদিকে দেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন দলের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে আগামী দিনে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি নিয়ে নাগরিক সমাজ বারবার সতর্ক করে আসছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অতীতের যেকোনো স্বৈরাচারী প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠন করতে হলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক