দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখতে ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের অনমনীয় বা কঠিন শর্তের বৈদেশিক ঋণ প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে জমা পড়েছে। বিশ্ববাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের বিদ্যুৎ খাতের স্থবিরতা কাটাতে এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বিগত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে জ্বালানি খাতে সংঘটিত দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণে যে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল, তা উত্তরণে বর্তমান প্রশাসন বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সেসময়ের ভুল নীতি ও অপরিকল্পিত চুক্তির ফলে বিদ্যুৎ খাতে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ ঋণের অর্থ মূলত বিদ্যুৎ খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, স্মার্ট গ্রিড সিস্টেম চালু এবং জরুরি জ্বালানি আমদানির পেছনে ব্যয় করা হবে। তবে কঠিন শর্তের এই ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির ওপর যাতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও নীতিনির্ধারক পর্যায়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমেই কেবল এই ঋণের সঠিক ব্যবহার সম্ভব।
উল্লেখ্য, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতের মেগা প্রজেক্টগুলোর নামে অবাধ দুর্নীতির চিত্র উন্মোচিত হওয়ার পর থেকেই বর্তমান প্রশাসন প্রতিটি পদক্ষেপে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। তবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দিতে এবং কলকারখানায় উৎপাদন সচল রাখতে এই মুহূর্তের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক