আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের সমাপনী ম্যাচটি তিনি স্মরণীয় করে রাখলেন নিজের চেনা ছন্দে, পায়ের অসামান্য ঝলকানিতে। মাঠজুড়ে তার পারফরম্যান্স প্রমাণ করল কেন তিনি ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার। গোল এবং অ্যাসিস্টে পুরো ম্যাচ জুড়ে নিজের অসামান্য অবদান রেখে জাতীয় দল থেকে বিদায় নিলেন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তার জাদুকরী এক গোল এবং দুটি নিখুঁত অ্যাসিস্টের ওপর ভর করে বেনিনকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আলবিসেলেস্তেরা। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে বেনিনের রক্ষণভাগে একের পর এক হানা দিতে থাকেন মেসিরা। ম্যাচের প্রথমার্ধেই গোলের দেখা পায় দল। মেসির বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে আর্জেন্টাকে এগিয়ে দেন সতীর্থ ফরোয়ার্ড। এরপর দ্বিতীয়ার্ধেও বজায় থাকে তাদের এই আক্রমণাত্মক ধারা। ম্যাচের শেষ দিকে ডি-বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ এক ফ্রি কিকে গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন স্বয়ং লিওনেল মেসি। এই গোলটি যেন তার বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের এক উপযুক্ত সমাপ্তি।
ম্যাচ শেষে পুরো স্টেডিয়ামের দর্শকরা দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানান তাদের প্রিয় অধিনায়ককে। সতীর্থরাও ঘিরে ধরেন ফুটবলের এই বরপুত্রকে। আবেগঘন এক পরিবেশে সতীর্থদের কাঁধে চড়ে এবং দর্শকদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মাঠ ছাড়েন মেসি। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কোচ ও সতীর্থরা জানান, মেসির এই বিদায় কেবল একটি অধ্যায়ের শেষ নয়, এটি বিশ্ব ফুটবলের এক স্বর্ণালি যুগের সমাপ্তি। তার এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়, তবে তার রেখে যাওয়া স্মৃতি এবং অনুপ্রেরণা যুগে যুগে তরুণ ফুটবলারদের পথ দেখাবে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক