বর্ষাকালে চুল পড়ার সমস্যা অনেকের কাছেই পরিচিত এক ভোগান্তি। বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা, ঘাম, ভেজা পরিবেশ ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এ সময় চুল দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। কেউ নতুন শ্যাম্পু বা হেয়ার সিরাম ব্যবহার করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ চুলের আসল যত্ন শুরু হয় শরীরের ভেতর থেকে।
চুল ভালো রাখতে শুধু বাহ্যিক পরিচর্যা যথেষ্ট নয়। শরীরে প্রোটিন, আয়রন, জিংক, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২ ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের ঘাটতি দেখা দিলে চুলের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। তাই বর্ষায় চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু পুষ্টিকর খাবার রাখা জরুরি।
প্রাচীনকাল থেকেই চুলের যত্নে আমলকির ব্যবহার জনপ্রিয়। এতে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে এবং শরীরে আয়রন শোষণ বাড়ায়। ফলে চুলের গোড়া শক্ত রাখতে এটি উপকারী হতে পারে।
দেশীয় শাকসবজির মধ্যে পালং শাক ও লাল শাক আয়রন এবং ফলেটের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এগুলো মাথার ত্বকে অক্সিজেন পৌঁছাতে সাহায্য করে, যা পুষ্টির ঘাটতিজনিত চুল পড়া কমাতে সহায়ক হতে পারে।
অঙ্কুরিত মুগ ডালে রয়েছে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, বায়োটিন ও প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড। নিয়মিত খেলে চুলের গোড়া মজবুত রাখতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
চিয়া সিড বর্তমানে বেশ জনপ্রিয় হলেও তিসি বীজ সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী। এই দুই খাবারেই রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা মাথার ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
আখরোটআখরোট
আখরোটে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান চুলের ফলিকলকে পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করে। অল্প পরিমাণে নিয়মিত আখরোট খাওয়া চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
ডিমকে চুলের জন্য অন্যতম সহজলভ্য সুপারফুড বলা হয়। এতে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন ও বায়োটিন চুলের মূল উপাদান কেরাটিন তৈরিতে সাহায্য করে, যা চুলকে শক্ত ও স্বাস্থ্যবান রাখতে সহায়ক।
ইলিশ, রুই, কাতলা কিংবা অন্যান্য দেশি মাছ প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের ভালো উৎস। মাছের পুষ্টিগুণ চুলের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে এবং ঘনত্ব ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
কালোজিরা আমাদের রান্নাঘরের খুব পরিচিত একটি উপাদান। অন্যদিকে কারিপাতায় রয়েছে আয়রন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিন। এই দুই উপাদান চুলের গোড়া মজবুত রাখতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা, অতিরিক্ত চা-কফি পান, কম পানি খাওয়া এবং রাত জাগার অভ্যাস চুলের ক্ষতির কারণ হতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত মানসিক চাপও চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির চক্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তাই বর্ষাকালে শুধু নতুন হেয়ার প্রোডাক্টের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাবারের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ ভেতর থেকে পুষ্টি পেলে তবেই চুল হবে স্বাস্থ্যবান, মজবুত ও প্রাণবন্ত।