শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ন

মধু খেলে কি কাশি ভালো হয়?

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬ ১২:৫৯ pm

মধুর অনেক গুণ। অনেক ধরনের অসুখ সারাতে এটি কাজ করে। কাশির জন্য মধু দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্ভরযোগ্য ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, কিন্তু এটি কি আসলেই কাশি সারাতে সাহায্য করে? এই প্রাকৃতিক মিষ্টিটি কাশির উপসর্গ থেকে আরাম দিতে পারে কি না এবং এটি ব্যবহারের সবচেয়ে কার্যকর উপায় কী, সে সম্পর্কে চলুন জেনে নেওয়া যাক-

কাশি সারাতে কি মধু ব্যবহার করা যায়?

কাশির প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসেবে মধু দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বৈজ্ঞানিক গবেষণাও ইঙ্গিত দেয় যে এটি উপসর্গ থেকে আরাম দিতে কার্যকর হতে পারে, বিশেষ করে হালকা ঊর্ধ্ব শ্বাসনালীর সংক্রমণের ক্ষেত্রে। এর ঘন, আঠালো গঠন গলাকে আবৃত করে ও আরাম দেয়, যা কাশির কারণ হতে পারে এমন অস্বস্তি কমিয়ে দেয়। মধুর মধ্যে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্যও রয়েছে, যা এর আরামদায়ক প্রভাবে অবদান রাখতে পারে।

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, মধু রাতের কাশির তীব্রতা মাতে পারে। এটি সাধারণ সর্দিতে আক্রান্ত শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের ঘুমের মানও উন্নত করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে উপসর্গ উপশমের জন্য এটি দোকানে পাওয়া যায় এমন কিছু কাশির ওষুধের মতোই বা তার চেয়েও ভালো কাজ করেছে। এর ফলে অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সাধারণ কাশির জন্য একটি সহজ ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে মধুর সুপারিশ করে থাকেন।

বিএমজে জার্নালস-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, মধু শ্বাসতন্ত্রের উপরের অংশের সংক্রমণের উপসর্গ কমাতে সাহায্য করেছে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই মিষ্টিজাতীয় পদার্থটি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের বিস্তারকে ধীর করতে পারে। এতে আরও বলা হয়েছে যে মধু অ্যান্টিবায়োটিকের একটি সহজলভ্য এবং সস্তা বিকল্প।

কাশি নিরাময়ে সঠিক উপায়ে মধু খাওয়ার কিছু কৌশল

* ঘুমানোর আগে মধু খেলে তা বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে।

* এক বা দুই চা চামচ মধু সরাসরি খান।

* মধু গরম পানি, দুধ বা ভেষজ চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি গলার অস্বস্তি কমাতে এবং সাময়িক আরাম দিতে সাহায্য করতে পারে।

মধু কাশির মূল কারণ, যেমন ভাইরাল সংক্রমণ, অ্যালার্জি, হাঁপানি বা ব্যাকটেরিয়াজনিত অসুস্থতার চিকিৎসা করে না। এটি মূলত শরীর সেরে ওঠার সময় উপসর্গগুলো নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও, এক বছরের কম বয়সী শিশুদের কখনোই মধু দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে ইনফ্যান্ট বোটুলিজম নামক একটি বিরল কিন্তু গুরুতর রোগের ঝুঁকি থাকে। ডায়াবেটিস রোগীদেরও পরিমিত পরিমাণে মধু খাওয়া উচিত, কারণ এটি রক্তে শর্করার মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।

শেয়ার করুন

  • Facebook
  • Twitter
  • Digg
  • Linkedin
  • Reddit
  • Google Plus
  • Pinterest
  • Print
আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD