ঋণের চাপ কমাতে বন্ড ছেড়ে অর্থ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি টেকনো ড্রাগস লিমিটেড। কোম্পানিটির বন্ড ছেড়ে ৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করে ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি আর্থিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতি নিতে বিশেষ সাধারণ সভাও (ইজিএম) আহ্বান করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১৭ মে) দেশের দুই শেয়ারবাজার ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই ও সিএসই) মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে কোম্পানিটি।
কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুয়ায়ী, গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের ১৯৬তম সভায় পাঁচ বছর মেয়াদি ৫০ কোটি টাকার কুপন বেয়ারিং বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। কোম্পানির বিদ্যমান ঋণ পুনর্গঠন (লোন রিস্ট্রাকচারিং) এবং আর্থিক দায় ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার উদ্দেশ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কোম্পানিটি জানায়, প্রস্তাবিত বন্ডের মধ্যে ২৫ শতাংশ রিডিমেবল এবং ৭৫ শতাংশ কনভার্টেবল থাকবে। অর্থাৎ বন্ডের একটি অংশ নির্দিষ্ট সময় শেষে নগদে পরিশোধ করা হবে, আর বড় অংশটি নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে ভবিষ্যতে কোম্পানির শেয়ারে রূপান্তর করা যাবে। এর মাধ্যমে কোম্পানিটি সরাসরি ঋণের চাপ কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে মূলধন কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাবে।
তবে এ বন্ড ইস্যু কার্যকর হওয়ার আগে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এ লক্ষ্যে আগামী ২৪ জুন সকাল ১১টায় বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। এই সংক্রান্ত রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ জুন ২০২৬। রেকর্ড ডেট-এ যেসব বিনিয়োগকারীর কাছে কোম্পানির শেয়ার থাকবে, তারাই ইজিএমে অংশগ্রহণ ও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এদিকে প্রস্তাবিত বন্ড ইস্যুর সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এমটিবি ক্যাপিটাল লিমিটেডকে ইস্যু ম্যানেজার এবং অ্যারেঞ্জার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ।
টেকনো ড্রাগস শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ২০২৪ সালে। ‘এ’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১৩১ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা। গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কোম্পানিটির মোট শেয়ার মালিকানার মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৬২ দশমিক ৭১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশের অংশীদারিত্ব রয়েছে।