বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করায় আগামী আগস্ট থেকে দৈনিক তেল উৎপাদন আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ওপেক প্লাস জোটভুক্ত সাতটি দেশ। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের পর বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জোটটি।
স্থানীয় সময় রোববার (৫ জুলাই) ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে ওপেক প্লাস জানায়, সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমান আগামী আগস্ট থেকে দৈনিক এক লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত তেল উৎপাদন করবে। খবর আল জাজিরার।
এটি টানা পঞ্চম মাস, যখন এই সাতটি দেশ উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল। ২০২৩ সালে স্বেচ্ছায় কমানো উৎপাদন ধীরে ধীরে পুনরায় বাড়ানোর অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকের পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ওপেক প্লাস জানায়, বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনে উৎপাদন বাড়ানো, স্থগিত রাখা কিংবা আবার কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ নমনীয়তা থাকবে।
জোটটি আরও জানায়, আগামী ২ আগস্ট সদস্য দেশগুলো আবার বৈঠকে বসে বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কমতে শুরু করেছে।
আজ সোমবার (৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের সেপ্টেম্বর সরবরাহের মূল্য ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার আগের দামেরও নিচে।
যুদ্ধ চলাকালে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত ব্যাহত হওয়ায় ওপেক প্লাস দেশগুলো উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছিল। কারণ রপ্তানি বন্ধ থাকায় বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণাগারে জমে গিয়েছিল।
ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ওপেক প্লাস দেশগুলোর দৈনিক উৎপাদন ছিল ৪২ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন ব্যারেল, যা মেতে নেমে আসে ৩৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ব্যারেলে।
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক বাজার বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান আইজি (আইজি)-এর বিশ্লেষক ফ্যাবিয়েন ইয়িপ বলেন, ওপেক প্লাস যে উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, বাস্তবে তার প্রভাব সীমিত হতে পারে। কারণ যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় প্রকৃত সরবরাহ অনেক কম ছিল।
ইয়িপ বলেন, এখন সেই বাধা ধীরে ধীরে দূর হচ্ছে। সৌদি আরব ১৭ জুনের পর আগের তিন মাসের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি তেল রপ্তানি করেছে। অন্যদিকে ইরানও প্রায় ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে ছেড়েছে।