বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়াতে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপসিক, মেমরি চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘সিএক্সএমটিসহ’ জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত আরও শতাধিক কোম্পানিকে বাণিজ্যিকভাবে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করা স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে বুধবার (১৭ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রয়টার্স বলছে, গত বছরই একটি আন্তঃবিভাগীয় কমিটি কোম্পানিগুলোকে মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের ‘এনটিটি লিস্ট’ বা কালো তালিকায় যুক্ত করার অনুমোদন দিয়েছিল। প্রকাশিত না হওয়া এ তালিকার বিস্তারিতও তুলে এনেছে সংবাদমাধ্যমটি।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডিপসিক প্রযুক্তি বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা গত বছর রয়টার্সকে বলেন, এই স্টার্টআপ চীনের সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে সহায়তা করেছে। এছাড়া উন্নত মার্কিন চিপ অবৈধভাবে সংগ্রহের জন্য প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু নাম সর্বস্ব কোম্পানি ব্যবহার করেছে।
চলতি বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’ জানিয়েছে, ডিপসিকসহ আরও দুটি চীনা এআই ল্যাব ক্লাউড এআই থেকে অবৈধভাবে তথ্য চুরির চেষ্টা করেছে। ওপেনএআইও একই ধরনের সতর্কবার্তা দিয়েছে।
বাইডেন প্রশাসনের সময় চীনের শীর্ষ মেমরি চিপ নির্মাতা সিএক্সএমটিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ‘সামরিক কোম্পানি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। এক বছরের বেশি সময় আগে এটিকে কালো তালিকায় রাখার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল মার্কিন বাণিজ্য দপ্তর।
কালো তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে মার্কিন কোম্পানিগুলো লাইসেন্স ছাড়া কোনো ধরনের ব্যবসা করতে পারে না। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স পাওয়ারও তেমন কোনো সম্ভাবনা থাকে না।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এসব অভিযোগের বিষয়ে ডিপসিক এবং সিএক্সএমপির পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বাণিজ্য দপ্তরের শিল্প ও নিরাপত্তা ব্যুরোও তালিকা প্রকাশে বিলম্বের কারণ নিয়ে সরাসরি কোনো উত্তর দেয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে অন্তত ৭৫টি চীনা সেমিকন্ডাক্টর ও এআই কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করার জন্য আন্তঃবিভাগীয় কমিটির অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ তালিকাটি এখনও প্রকাশ করেনি।
সূত্র: রয়টার্স