খুলনায় একটি ছাত্রাবাসে ভাত চুরি করে খাওয়ার অমানবিক অপবাদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মেধাবী শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় অবশেষে চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে নিহত ওই শিক্ষার্থীর বাবা কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের শিকার আজমুল হোসেন ওরফে আযমের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর পুরো এলাকায় তীব্র শোক এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত আজমুল হোসেন খুলনার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি একটি ছাত্রাবাসে থেকে নিজের খরচ চালাতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে সামান্য একটি বিষয় নিয়ে তাকে ছাত্রাবাসের কিছু তরুণের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো হয়। পরে অত্যন্ত তুচ্ছ এবং বানোয়াট একটি অভিযোগ তুলে তাকে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করা হয়। সেই নির্যাতনের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার দিন রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ইতোমধ্যে কয়েকজনকে নজরদারিতে রেখেছে এবং মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতারে জোরেশোরে অভিযান চালাচ্ছে। এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে যে, দোষী ব্যক্তিদের খুব দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে সব আসামিকে গ্রেফতারের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা ক্যাম্পাসের আশপাশে বিক্ষোভ মিছিল করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং এমন নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকেও এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক