কুষ্টিয়ায় সার ডিলার নিয়োগে বড় ধরনের দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছেন কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। তিনি এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি জড়িত নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্বশীল কর্মকর্তার নিরপেক্ষ তদন্ত সা কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন।
মুফতি আমির হামজা অভিযোগ করে জানান, কুষ্টিয়া জেলায় সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে চরম অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে। প্রতিটি ডিলারশিপের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে গোপনে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ নেওয়া হয়েছে বলে তার কাছে তথ্য রয়েছে। কৃষকদের অধিকার হরণ করে যারা এই দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েছেন, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
এদিকে সংসদ সদস্যের এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছে যে, ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তাদের দাবি, এমপি মহোদয়ের কাছে যে তথ্য পৌঁছানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এর সাথে বাস্তবের কোনো মিল নেই। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তারা দ্রুত এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সার ডিলার নিয়োগের মতো একটি অতি সংবেদনশীল বিষয়ে এমন প্রকাশ্য দুর্নীতির অভিযোগ দেশের কৃষি খাতের ব্যবস্থাপনায় এক বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। এর আগেও ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের আমলে কার্যকর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এমন বহু অনিয়ম ও দুর্নীতির পসরা বসেছিল। বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক