সদ্যবিদায়ী জুলাই মাসে দেশজুড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ৩৫.৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একাধিক লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে মাসজুড়েই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণ হয়েছে। তবে আগস্ট মাসে এসে বৃষ্টির এ চেনা রূপ কিছুটা বদলাতে পারে বলে আভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটির দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, চলতি আগস্ট মাসে সার্বিকভাবে দেশে স্বাভাবিক অপেক্ষা কিছুটা কম বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কম বৃষ্টিপাতের মধ্যেও উজান ও দেশের অভ্যন্তরে সাময়িক ভারী বর্ষণের প্রভাবে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
জুলাই মাসের আবহাওয়া পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ময়মনসিংহ বিভাগ ছাড়া দেশের বাকি সাতটি বিভাগেই স্বাভাবিক অপেক্ষা অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে ৫১ শতাংশ, সিলেট বিভাগে ৩৭.৩ শতাংশ এবং ঢাকা বিভাগে প্রায় ৩৩.৪ শতাংশ, খুলনা বিভাগে ৫৩ শতাংশ বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। পুরো মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দৈনিক বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল গত ৮ জুলাই চট্টগ্রামে, যেখানে এক দিনেই ৩২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। মাসটিতে বঙ্গোপসাগরে মোট তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছিল, যার মধ্যে দুটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হয়ে দেশের উপকূলীয় এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্য অতিক্রম করে।
আগস্ট মাসের সার্বিক পূর্বাভাসে সংস্থাটি জানায়, এ মাসে সামগ্রিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম থাকলেও বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এগুলোর মধ্যে অন্তত একটি মৌসুমি নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশে চলতি মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা কিছুটা বেশি থাকতে পারে। আগস্টে দেশের কোথাও কোথাও এক থেকে দুটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যার ফলে পারদ ৩৬ থেকে প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কোঠায় পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া চলতি মাসে অন্তত তিন থেকে পাঁচ দিন বজ্রঝড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নদ-নদীর অবস্থা নিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানিপ্রবাহ সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক থাকলেও মৌসুমি ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজানের অববাহিকায় আকস্মিক বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য নদীগুলোর সংলগ্ন এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। কৃষকদের জন্য এতে স্বস্তির পাশাপাশি বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। মাটিতে আর্দ্রতার পরিমাণও বিভিন্ন বিভাগে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
পরবর্তী তিন মাস অর্থাৎ আগস্ট থেকে অক্টোবর মেয়াদের আবহাওয়ার ধারা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসেও বঙ্গোপসাগরে একাধিক লঘুচাপ তৈরি হতে পারে, যার মধ্যে কিছু ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এ সময়ের মধ্যে সারাদেশে সামগ্রিকভাবে বজ্রপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে এবং স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি উষ্ণ আবহাওয়া বজায় থাকতে পারে। তবে আকস্মিক ভারী বর্ষণ ও উপকূলীয় লঘুচাপের গতিপথের ওপর দেশের অভ্যন্তরীণ আবহাওয়া অনেকটাই নির্ভর করবে বলে জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।