শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৩ অপরাহ্ন

প্রথম মুসলিম ফুটবলার হিসেবে ইংল্যান্ড দলে ডাক পেলেন স্পেন্স

আরব-বাংলা রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১০:০৬ am

২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আগামী ৬ ও ১০ সেপ্টেম্বর অ্যান্ডোরা ও সার্বিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড। আসন্ন এই দুটি ম্যাচের জন্য প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ড দলে ডাক পেয়েছেন জেড স্পেন্স। এর মাধ্যমে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন টটেনহাম হটস্পারের এই ফুলব্যাক। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে খেলতে নামলে ইংল্যান্ডের প্রথম প্র্যাকটিসিং মুসলিম ফুটবলার হিসেবে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।

ইংল্যান্ড দলে প্রথমবার ডাক পাওয়ায় একইসঙ্গে গর্বিত ও বিস্মিত হয়েছেন স্পেন্স। ২৫ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার জানিয়েছেন, ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলের সঙ্গে আগে কখনও কথা বলেননি তিনি। যে কারণে এমন ডাক পাওয়ার খবরে নিজেই অবাক। পাশাপাশি তার কাছে আরও বিস্ময়ের খবর এই যে, ইংল্যান্ডের সিনিয়রদের পুরুষ দলে প্রথম মুসলিম প্রতিনিধি হিসেবে ইতিহাস তৈরি করতে যাচ্ছেন তিনি।

স্পেন্সের জন্ম-বেড়ে ওঠা লন্ডনে। তবে তার মা কেনিয়ান, বাবা জ্যামাইকান। তার বড় বোন কার্লা-সিমোন স্পেন্স বেশ জনপ্রিয় অভিনেত্রী। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ফুলহ্যামের একাডেমি থেকে উঠে এসে পেশাদার ফুটবলে তার বিচরণ শুরু ২০১৮ সালে মিডলসব্রার হয়ে। উত্তর ইয়র্কশায়ারের ক্লাবটির হয়ে ওই বছরই তার অভিষেক হয়। তবে দলে জায়গা পাকা করতে পারেননি লম্বা সময়ে।

২০২১ সালে তাকে ধারে পাঠানো হয় নটিংহ্যাম ফরেস্টে। সেখানে দ্বিতীয় স্তরে দুর্দান্ত পারফর্ম করে বড় ভূমিকা রাখেন নটিংহ্যামের প্রিমিয়ার লিগে উঠে উন্নীত হওয়ায়। সেই মৌসুমের পারফরম্যান্সে বেশ কটি বড় ক্লাবের নজরে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালে ২ কেটি পাউন্ডে তাকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে দলে নেয় টটেনহ্যাম হটস্পার। একই বছর ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-২১ দলেও সুযোগ পেয়েছিলেন স্পেন্স।

এদিকে বদলি হিসেবে টুকটাক সুযোগ পেলেও অনুমিতভাবেই টটেনহ্যামের স্কোয়াডে তার নিয়মিত জায়গা মেলেনি। ফরাসি ক্লাব রেনে, ইংলিশ ক্লাব লিডস ইউনাইটেড, স্পেনের ক্লাব জেনোয়ায় ধারে সময় কাটতে থাকে তার। অবশেষে গত বছরের আগস্টে টটেনহ্যামের হয়ে আবার মাঠে নামার সুযোগ পান তিনি দেড় বছরের বেশি সময় পর। বদলি নেমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে প্রথম একাদশেও জায়গা করে নেন।

টটেনহ্যামে নাম লেখানোর ৮৮১ দিন পর প্রথমবার শুরুর একাদশে ঠাঁই পান তিনি গত ডিসেম্বরে। তার ফর্ম আর দলের বেশ কজনের চোট মিলিয়ে একাদশে নিয়মিত সুযোগ পেতে থাকেন তিনি। পারফরম্যান্সও মেলে ধরেন। গত ফেব্রুয়ারিতে মাস-সেরার স্বীকৃতিও পান। প্রিমিয়ার লিগে প্রথম গোলের স্বাদ পান ওই মাসেই। পরে ইউরোপা লিগের ফাইনালে বদলি হিসেবে নেমে অবদান রাখেন দলের শিরোপা জয়ে।

জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়ানোর সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত স্পেন্স। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘এটা অসাধারণ, সত্যিই অবর্ণনীয়। ইংল্যান্ড সিনিয়র দলে ডাক পাওয়া আমার জীবনের জন্য এক বিশাল আশীর্বাদ। প্রথম মুসলিম খেলোয়াড় হিসেবে জায়গা পাওয়াটা আরও বিশেষ কিছু।’

প্রথম মুসলিম খেলোয়াড় হিসেবে চাপ অনুভব করছেন কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেছেন, ‘হয়তো, হয়তো না। আমি আসলে চাপ অনুভব করি না। শুধু হাসি মুখে ফুটবল খেলতে চাই, খুশি থাকতে চাই। বাকিটা নিজে থেকেই হয়ে যাবে।’

তার ধর্মীয় বিশ্বাস তার পরিচয়ের বড় অংশ, যা তিনি সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘সবার আগে হচ্ছে আল্লাহ মহান। আমি সব সময় প্রার্থনা করি। জীবনের কঠিন মুহূর্তেও আমি বিশ্বাস করেছি আল্লাহ আমার পাশে আছেন। জেতার বা ভালো অবস্থায় থাকা মুহূর্তেও আল্লাহর প্রশংসা করি।’

স্পেন্স আশা করছেন, তার গল্প অন্যান্য শিশুদের, বিশেষ করে মুসলিম ও ধর্মবিশ্বাসী শিশুদের অনুপ্রেরণা দেবে। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, আমার এই যাত্রা অন্য শিশুদের অনুপ্রেরণা জোগাবে বিশেষ করে মুসলিম ও ধর্মবিশ্বাসী শিশুদের। শুধু মুসলিম নয়, সব ধর্মের শিশুরাই যদি মনে জোর রাখে, তাহলে সবকিছুই সম্ভব।’

শেয়ার করুন

আরো
© All rights reserved © arabbanglatv

Developer Design Host BD