মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জাহিদুল ইসলামের বিচক্ষণতায়া অবশেষ সিংগাইরে জোবায়ের ও সাদ পন্থীদের গ্রুপিং সমস্যার অবসান হতে চলেছে। কোন গ্রুপিং নয় বরং এক একসাথে মিলেমিশে চলবে তাবলীগ জামাত। গ্রুপিং সমস্যা সমাধানের লক্ষে তাবলীগ জামাতের জোবায়ের ও সাদ পন্থীদের মধ্যে ইসলামী বিতর্কের (বাহাস) আয়োজন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
সিংগাইর থানার গোলঘরে জোবায়ের পন্থী ও সাদ পন্থীদের সাথে এক বৈঠকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জাহিদুল ইসলামের মধ্যস্থতায় এই বাহাসের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঐ বাহাসে ইসলামিক যুক্তি তর্কে যারা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তারাই সিংগাইরে তাবলীগ জামাতের নেতৃত্ব দিবেন। এরপরে আর কোন গ্রুপ থাকতে পারবে না। সর্বসাধারণের সামনে খোলা ময়দানে বাহাসের এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বাহাসের অনুষ্ঠানে বিজ্ঞ আলেম সমাজ ও ইসলামিক স্কলার্স বা ইসলামিক জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হবে।
সিংগাইরে জুবায়ের ও সাদ গ্রুপের চলমান বিরোধ নিরসনের লক্ষে ওসি জাহিদুল ইসলাম এই প্রস্তাব আনেন। পরে উভয় পক্ষ ঐ প্রস্তাবে সহমত প্রকাশ করেন। আগামী ঈদুল ফিতরের পর এই বাহাস অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। উভয়পক্ষকে তাদের দুই গ্রুপের মুরুব্বীদের সাথে কথা বলে সময় নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন জাহিদুল ইসলাম।
ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, যেহেতু তারা সাধারণ মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান করেন, তাই তাদের কোন গ্রুপিং করা ঠিক নয়। দ্বীনের দাওয়াতে সকলকে একমতে কাজ করা উচিত। আর গ্রুপিং থাকলে আইশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা ভেঙে পড়ে। তাই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় এই পরামর্শ দেয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, নিশ্চই দুই গ্রুপে অভিজ্ঞ আলেমগণ রয়েছেন। বাহাসের পর যাদেরটা কুরআন হাসিদ অনুযায়ী সঠিক আক্বিদা বলে প্রমাণিত হবে, তাদের নেতৃত্বেই তাবলীগ জামাত পরিচালিত হবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সিংগাইরের বিভিন্ন স্থানে পন্থী ও সাদ পন্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। যদিও জোবায়ের পন্থীদের দাবি তাদের কেউ নন বরং জনগন সাদ পন্থীদের প্রতিহত করেছেন। কারণ ইতিপূর্বে সাদ পন্থীরা টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে মানুষ হত্যা করেছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। আর সাদ পন্থীদের দাবি জোবায়ের পন্থীর লোকেরাই তাদের উপর হামলা চালিয়েছে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জুবায়ের ও সাদ পন্থীদের সমস্যার সমাধান দিতে ব্যর্থ হন। সবশেষে সিংগাইর থানার চৌকস পুলিশ অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জাহিদুল ইসলামের হস্তক্ষেপে দুইটি গ্রুপই অপরাধ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে বাহাসে বসতে রাজি হন। এবং ভবিষ্যতে কোন ধরনের সমস্যা জড়াবেন না বলেও কথা দেন।