বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিআরটিএ রাজশাহী কার্যালয় দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, রিনিউ ও ক্লাস উন্নয়ন, স্মার্টকার্ড বায়োমেট্রিক, গাড়ি ফিটনেস প্রসেসিং কিংবা নম্বর প্লেট অনুমোদন ঘিরে গড়ে উঠেছে দালালচক্রের বিশাল সিন্ডিকেট। এই সিন্কেটের দৌরাত্ম্যে চরমভাবে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা। নির্ধারিত ফি জমা দিয়েও মাসের পর মাস ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অসাধু চক্রের যোগসাজশে এই দালালরা কার্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ কোনো প্রকার দালালের সাহায্য ছাড়া কাউন্টারে গেলে নানা অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয় বা দীর্ঘসূত্রতার শিকার হতে হয়। অথচ অতিরিক্ত টাকা প্রদান করলেই মুহূর্তের মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে সেবা নিতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের।
এদিকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর পক্ষ থেকেও সরকারি দপ্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানানো হয়েছে। জনগণের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে বিআরটিএ রাজশাহী কার্যালয়ের এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
অন্যদিকে কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ হওয়া ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের দোসররা অতীতে এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে সাধারণ মানুষ আশা করছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কঠোর তদারকির মাধ্যমে দেশের সকল সরকারি সেবা খাত দালালমুক্ত হবে এবং সাধারণ নাগরিকরা কোনো রকম হয়রানি ছাড়াই সহজে তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক