রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী কার্যক্রম ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানীতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয় বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য নায়কদের খুঁজে বের করার দাবি জানিয়ে আসছিল দেশবাসী। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিডিআর সদরদপ্তরে সংঘটিত পিলখানা ট্র্যাজেডিতে শহীদ হন বহু দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তা। সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এসব স্পর্শকাতর ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, অবসরপ্রাপ্ত মেজর খন্দকার আব্দুল হাফিজের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী গোপন ষড়যন্ত্রের সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে ডিবি পুলিশের তৎপরতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
উল্লেখ্য, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে নানা বিতর্কিত ঘটনা ও হত্যাকাণ্ডের যথাযথ তদন্ত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভুত্থানের পর গঠিত বর্তমান প্রশাসন প্রতিটি হত্যা ও নাশকতার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। গ্রেপ্তারকৃত খন্দকার হাফিজকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এই গ্রেপ্তার একটি বড় অগ্রগতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক