বিশ্বে নিজেদের আধিপত্য ও সামরিক শক্তির বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে। তবে এমন সংঘাত ওয়াশিংটনের প্রত্যাশিত ফল না এনে উল্টো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে দ্রুত এগিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ওয়াশিংটনের বর্তমান কৌশলগত অবস্থান এবং তেহরানের ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কঠোর সামরিক পদক্ষেপ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরান তাদের নিজেদের সুরক্ষার খা্তিরে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হতে পারে। অতীতে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দক্ষিণ এশিয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে যেসব কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান বিশ্ব মোড়লদের আরও সংযত হওয়া প্রয়োজন। একইভাবে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতি যেভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছিল, তা থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকার কাজ করছে। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের সংঘাতের পথ বেছে নিচ্ছে, তাতে বৈশ্বিক শান্তি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসন যদি তাদের সামরিক কৌশল পুনর্বিবেচনা না করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে। এর ফলে কেবল ওই অঞ্চলেই নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যার সমাধান না করে যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়া কোনো অবস্থাতেই ফলপ্রসূ হবে না।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক