শক্তির বিচারে দুই দলের ব্যবধান আকাশ-পাতাল। কিন্তু ফুটবলের মাঠে ময়দানের লড়াইয়ে সবসময় অঙ্কের হিসাব মেলে না। সেই চিরন্তন সত্যের প্রমাণই দিল ফ্লিটউড টাউন। দুর্দান্ত লড়াই ও স্নায়ুর চাপ ধরে রেখে টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে শক্তিশালী আর্সেনালকে হারিয়ে ইএফএল কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে দলটি। হাইবারি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই হাই ভোল্টেজ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্সেনাল তাদের স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা চালায়। বলের পজিশন নিজেদের দখলে রেখে তারা ফ্লিটউডের রক্ষণভাগে বারবার হানা দিতে থাকে। তবে ছোট দলের ফুটবলাররা দারুণ সংহতি ও দৃঢ় মনোবল প্রদর্শন করে প্রতিটি আক্রমণ প্রতিহত করেন। ফ্লিটউডের ডিফেন্ডারদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং গোলরক্ষকের বীরত্বপূর্ণ সেভের কারণে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময়ের খেলা গোলশূন্য ড্র থাকার পর ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারে। স্নায়ুক্ষয়ী পেনাল্টি শ্যুটআউটে ফ্লিটউডের ফুটবলাররা অসাধারণ ঠাণ্ডা মাথার পরিচয় দেন। তাদের প্রায় প্রতিটি শটই নির্ভুলভাবে জালে জড়ায়। বিপরীতে, আর্সেনালের একটি শট মিস হয়ে গেলে লন্ডনের ক্লাবটির বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়। টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলের এই ঐতিহাসিক জয়ের মধ্য দিয়ে ফ্লিটউড ফুটবল ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় যোগ করল।
ম্যাচ শেষে ফ্লিটউডের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেড়ে পড়েন। স্টেডিয়ামে উপস্থিত সমর্থকরাও তাদের দলের এই রূপকথার জয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন। অন্যদিকে, বড় টুর্নামেন্ট থেকে এভাবে অপ্রত্যাশিতভাবে বিদায় নেওয়ার কারণে আর্সেনাল শিবিরে নেমে এসেছে চরম হতাশা। ফুটবলের রোমাঞ্চকর এই রাতে ছোট দল ফ্লিটউড প্রমাণ করল যে, মাঠের লড়াইয়ে আত্মবিশ্বাস ও নাছোড়বান্দা মানসিকতা থাকলে যেকোনো অসম্ভবকেই সম্ভব করা সম্ভব।
আরববাংলা টিভি/ডেস্ক